• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :

ছাতক-বাংলাবাজার সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম

চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতক-বাংলাবাজার সড়কের সংস্কার কাজের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে দায়সারা কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় লোকজন। যূগের পর যূগ থেকে চলাচলের অনুপযোগি মারাত্মক ভাঙ্গন কবলিত এসড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে এঅঞ্চলের লাখো মানুষকে। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি সংস্কারের দাবীতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করেছে স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল হিসেবে ২০১৬সালের শেষের দিকে ১কোটি ৫৮লাখ ৬২হাজার ৬শ’ টাকা ব্যয়ে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। এতে ২০১৬সালের নভেম্বরে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হলেও শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। টেন্ডারের মাধ্যমে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার ঠিকাদার আমিনুল হক এ কাজটি পান। সড়কের পৌরসভার অংশ থেকে কাজ শুরুর পরই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন পৌর কাউন্সিলর লিয়াকত আলী। পরে নোয়ারাই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জুবেদ আলী তালুকদারসহ স্থানীয় লোকজন একই অভিযোগ এনে কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ছাতকের নোয়ারাইবাজার থেকে খুদখাল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের অনেকাংশেই পাথরের পরিবর্তে পুরাতন রাস্তা থেকে সংগৃহীত ভাঙ্গা কংক্রিট ও রড দিয়ে পুনরায় সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। নতুন রডের সাথে এসব পুরাতন রড যোগ করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের বালু। ইতিমধ্যেই কয়েকশ’ ফুট রাস্তার ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু গরুর পায়ের চাপেঁ এসব ঢালাই উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রেেছ। এছাড়া কচ্ছপ গতিতে চলছে সংস্কার কাজ। কাজের ধীর গতির কারনে জনদুর্ভোগ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নোয়ারাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুবেদ আলী তালুকদার জানান, এই সড়ক সংস্কারের বিষয়টি ছিল এ অঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী। কিন্তু সড়ক সংস্কার কাজের সরকারী বরাদ্ধ হলেও ঠিকাদার দায়সারা কাজ করে লুঠপাট শুরু করেছে। তিনি এব্যাপারে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সমরেন্দ্র দাস তালুকদার জানান, পুরাতন রড ও সড়ক ভাঙ্গা কংক্রিট ব্যবহারের বিষয়টি ওয়ার্ক অর্ডারে অনুমতি দেয়া আছে। এতে রাস্তা মজবুতের পাশাপাশি সাশ্রয় হয়েছে সরকারের ১১লাখ টাকা। এ ছাড়া রাস্তার কাজের অন্য কোন অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ